ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বিধবা আছিয়া বেগমের নামে জালিয়াতি করে বিয়ের কাগজ তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
৪৩ বছর বয়সী আছিয়ার দাবি, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় জামায়াতকর্মী আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন। পরে একটি দোকানে ডেকে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়।
আছিয়ার অভিযোগ, সেই টিপসই ব্যবহার করে পূর্বপরিচিত আবদুল কুদ্দুছের সঙ্গে তার নামে কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, কোনো বিয়েতে যাননি, কাজিও দেখেননি এবং বিয়েতে সম্মতি দেননি।
কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে থাকা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো কাবিনের সাক্ষী হননি।
কাজি গোলাম মোস্তফাও দাবি করেছেন, তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেননি এবং ছড়িয়ে পড়া কাগজটি জাল।
আছিয়ার সঙ্গে কুদ্দুছের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তার ছেলের বিয়েতে কুদ্দুছ উকিল শ্বশুর ছিলেন। পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও আছিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে শ্রম দিয়ে বড় করেছেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস ছাত্তার। তার দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতও বলেছে, তিনি নিয়মিত পদধারী নেতা নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ চলছে। অভিযুক্তরা বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।